সংবাদ শিরোনাম

recent

দোয়ারাবাজারে ২০-২২ ঘণ্টা লোডশেডিং, নিরাপত্তা চেয়ে ডিসিকে পল্লী বিদ্যুতের চিঠি

 


দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

তীব্র গরমের মধ্যে দোয়ারাবাজার উপজেলায় দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুতের অভাবে ঘুরছে না ফ্যান, চালানো যাচ্ছে না পানির মোটর। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। একই সঙ্গে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকেরও কম হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে চার-পাঁচ ঘণ্টার আগে ফিরে না আসার অভিযোগও রয়েছে। আবার বিদ্যুৎ এলেও স্থায়ী হচ্ছে না বেশিক্ষণ।

এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়তে থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে দোয়ারাবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিস। বিদ্যুৎ অফিস, উপকেন্দ্র এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে গত বুধবার (১২ আগস্ট) সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত চিঠি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের চিঠি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে দোয়ারাবাজার উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ৫০ শতাংশের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

প্রশাসনের কাছে পাঠানো চিঠিতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, সরবরাহ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের অসন্তোষ ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিদ্যুৎ আসার পরও কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। ফলে ২৪ ঘণ্টায় কয়েক ঘণ্টার বেশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলার নরসিংপুরের বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, “প্রায় দুই মাস ধরে তীব্র লোডশেডিং চলছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ থাকে না। ২৪ ঘণ্টায় চার ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।”

বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, “গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। কারেন্ট এই আসে, এই যায়। ফ্যান ঘুরতে শুরু করলেই আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার চলে গেলে চার-পাঁচ ঘণ্টার আগে ফিরে আসে না। আসার পর আধাঘণ্টা যেতে না যেতেই আবার চলে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার পানির মোটর চালানো যাচ্ছে না। প্রচণ্ড গরমে ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। সন্তানদের পড়াশোনাতেও সমস্যা হচ্ছে।”

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম আব্দুর রশিদ বলেন, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সব অফিস ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।”

বিদ্যুতের দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট দ্রুত সমাধান করে নিরবচ্ছিন্ন ও সহনীয় মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দোয়ারাবাজারের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

দোয়ারাবাজারে ২০-২২ ঘণ্টা লোডশেডিং, নিরাপত্তা চেয়ে ডিসিকে পল্লী বিদ্যুতের চিঠি Reviewed by প্রান্তিক জনপদ on 8/14/2026 09:43:00 PM Rating: 5

No comments:

Copyright © Prantik Jonopd All Right Reseved 2020
Created by Thawhid Shahin

যোগাযোগ ফর্ম

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.