দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমিজমা লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক প্রবীণকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ; নিহতের পুত্রবধূ ও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হোসনা বেগম (৩৮), খাইরুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (২২) এবং মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নজরুল ইসলাম (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার থানার ২ নম্বর নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে মোহাম্মদ আলীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন। তাঁর জমির মালিকানা পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরবপ্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ তীব্র হয়। একপর্যায়ে হোসনা বেগম ও ইসমাইল মিয়া তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হোসনা বেগম তাঁর দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন। ঘটনার রাতে বৃদ্ধ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়লে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। পরে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত বৃদ্ধের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন ১৫ আগস্ট সকালে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালানো এবং দ্রুত দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নিহতের মুখে রক্তের চিহ্ন ও গলায় কালো দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরবর্তীতে হোসনা বেগমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি চুক্তির মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একজন প্রবীণকে হত্যার অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Reviewed by প্রান্তিক জনপদ
on
8/16/2026 08:00:00 PM
Rating:


No comments: