দোয়ারাবাজারে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা উপবৃত্তির তাৎপর্য নিয়ে সেমিনার
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজের মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক শহিদুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শফিউর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস, উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা. এ কে এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মুমিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া, বোগলা রুসমত আলী রাম সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাস্টার কামাল উদ্দিন, সহসভাপতি মো. বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব ভূইয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) লুৎফুর রহমান ও পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সালাম প্রমুখ।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের বোঝা নয়; তারা আমাদের সমাজেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তারা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে সরকারের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে তাদের শিক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচকরা বলেন, দোয়ারাবাজারে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর ও বিশেষায়িত শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। শুধু উপবৃত্তি প্রদান করলেই হবে না, শিক্ষাজীবন শেষে তাদের দক্ষতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রায় ২০০ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছে। তাদের শিক্ষা পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়।
সেমিনারে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই: