সংবাদ শিরোনাম

recent

জেলার পাঁচটি আসনের সবকয়টিতে বড় জয়



জনপদ ডেস্ক ::
জেলার পাঁচটি আসনের সবকয়টিতে বড় জয় পেয়েছে বিএনপি। জেলার পাঁচটি আসনের সবকয়টিতে অনেক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, জেলাজুড়েই নিরব ভোটাররা শেষ সময়ে বিএনপি প্রার্থীদের ভোট দেবার সিদ্ধান্ত নেন। ভোটের দিন হিন্দু ধর্মাবলম্বি, নিরব এবং আওয়ামী ঘরানার ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।

জেলার সবচেয়ে বেশি হিন্দু অধ্যুষিত উপজেলা শাল্লায় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৬.১০ শতাংশ। যা বিগত নির্বাচনগুলোর চেয়ে কম নয়। জেলার অন্যান্য এলাকার হিন্দু অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতেও ভোটার উপস্থিতি ছিল বেশি। এছাড়া আওয়ামী ঘরানার ভোটার এবং নিরব ভোটাররাও কেন্দ্রে গেছেন ভোট দিতে। এই ভোটারদের বড় অংশ ভোট দিয়েছেন ধানের শীষে। 

 


সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-মধ্যনগর-তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) বিএনপি প্রার্থী সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক  চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল  পেয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ৭৭৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ খান পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৬ ভোট, নেজামে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার  পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৪ ভোট। 

 


এই আসনে হিন্দু ভোটার ছাড়াও বিপুল সংখ্যক আওয়ামী ঘরানার ভোটার রয়েছেন। এরা ভোটের প্রচারণায় কম অংশ নিয়েছেন। অনেকটা নিরব ছিলেন।
জামায়েতের প্রার্থীর শেষ সময়ে সমাবেশ ছিল চোখে পড়ার মত। এই প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের পক্ষে প্রেডিকশনও তৈরি করেছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে। 
এই অবস্থায় নিরব ভোটাররা শেষ সময়ে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ নেন। ভোটের দিন কেন্দ্রে তাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মত। এই আসনের মধ্যনগরেও ভোট গ্রহণ হয়েছে ৫০.৯৪ শতাংশ। এই ভোটেরও বেশিরভাগ পেয়েছে ধানের শীষ।

 


শিক্ষক নেতা তাহিরপুরের বাসিন্দা মোদাচ্ছের আলম সুবল বললেন, পাঁচ আগস্টের পরে বিগত সরকারের শাসনামলে যারা অপকর্ম করেছে। তারা ছাড়া অন্য আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন কামরুল। অকারণে হয়রানি না করা বা মামলা মোকদ্দমায় না জড়ানোর পক্ষে তাঁর অবস্থান থাকায় এই ভোটাররা তাঁর পক্ষ নিয়েছে। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার ভোটাররাও তাকেই ভোট দিয়েছে বেশি। 
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মোহাম্মদ শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে  পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নিরঞ্জন দাস পেয়েছেন ১ হাজার ২৩২ ভোট। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৫৪.৭৩ শতাংশ ভোটার। গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৬৭ হাজার ৪১০ ও না ভোট ৭০ হাজার ৮২৩ টি। অর্থাৎ হ্যা ভোট এখানে জয়ী হয়েছে। 

 


ওখানকার একটি বড় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত একজন প্রিজাইডিং অফিসার জানালেন, ভোটের সময় ভোটারদের কথাবার্তায় তারা বুঝেছেন, ‘যারা না ভোট দিচ্ছে, তারা ধানের শীষকেও ভোট দিচ্ছে। তখনই মনে হয়েছে এখানে জয় পাবে ধানের শীষ।

 


শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুস ছত্তার বললেন,‘ গেল জাতীয় নির্বাচনে নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র সহানুভূতি ছিল প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিতের স্ত্রী ড. জয়া সেন গুপ্তার প্রতি, এবারের ভোটে জয়া সেন এই ঋণ শোধ করেছেন। আওয়ামী ঘরানার ভোটার নাছির উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষেই ছিল। ভোট কেন্দ্রে যাওয়া এই ঘরানার ভোটারদের ৭৫ শতাংশ পেয়েছেন নাছির চৌধুরী, ২৫ ভাগ শিশির মনির। এখানেই বড় ব্যবধান তৈরি হয়ে গেছে।


দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায় কবির আহমদ বললেন, ‘হিন্দু ভোটারদের সকল কেন্দ্রেই ধানের শীষ লিড করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে এবার স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন তারা।’
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে ৪২ হাজার ২২৬ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী ১৪ হাজার ২০৩ ভোট, স্বতন্ত্র মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার ২৩৭ ভোট, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ ৮৫৭ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ৪ হাজার ৯৩৭ ভোট ও স্বতন্ত্র হুসাইন আহমেদ ১৭৭ ভোট পেয়েছেন। এখানে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনকে আওয়ামী ঘরানার কিছু নেতা পরোক্ষাভাবে সমর্থন জানালেও, প্রচারণার শেষ সময়ে বিএনপি প্রার্থী কয়ছরের কৌশলের কাছে হেরে যান আনোয়ার।


জগন্নাথপুরের জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম কর্মী অমিত দেব বললেন, নিরব ভোটাররা শেষ মুহূর্তে কয়ছরের পক্ষেই অবস্থান নেন। এজন্য ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে। ধানের শীষের ভোটের ব্যবধানও বেড়েছে।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ^ম্ভরপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী নূরুল ইসলাম নূরুল পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৯২ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়েতের মো. সামছ উদ্দিন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৭৫ ভোট। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩০৭ ভোট, জাতীয় পার্টিও নাজমুল হুদা এক হাজার ৭৮৯ ভোট পান। 

ভোটের দিন সরেজমিনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়েই বুঝা গেছে ধানের শীষের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন নিরব ভোটাররা। এখানে জামায়েতে ইসলামীর প্রাথী মো. সামছ উদ্দিনের শেষ শো-ডাউন অনেক ভালো হয়েছিল। এরপরের সময়ে ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয়তা বাড়ায় কর্মীরা। নিরব ভোটারদের কাছে ওই সময় বার্তা ছিল- জামায়েতের প্রার্থীর অবস্থা ভালো, ভোটে জিতবে জামায়াত। কোন কোন নিরব ভোটার যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীনকে ভোট দিতে চেয়েছিল, তারাও মত পরিবর্তন করে পরে ধানের শীষে ভোট দেবার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছেন একাধিক ভোটার।

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক- দোয়ারা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এক লক্ষ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম জামায়াতে ইসলামী মনোীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ সালাম এক লাখ দুই হাজার ১২১ ভোট, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির দুই হাজার ২৭৮, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম এক হাজার ৫২৪ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আজিজুল হক ৪৩৩ ভোট পান।

শুরু থেকেই প্রচারণায় কৌঁশলি ছিলেন বিএনপি প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, তিনি বিএনপি ভোটারদের যেভাবে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। নিরব ভোটারদেরও তাঁর পক্ষে রাখার চেষ্টা করেছেন।
ছাতক প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী আব্দুল আলিম বললেন, যে কেন্দ্রে বিএনপির ৫ জন কর্মীও নেই, সেখানেও ধানের শীষ অনেক ব্যবধানে লিড করেছে। তিনি জানালেন, ছাতক শহরের মন্ডলি ভোগের মত কেন্দ্রেও বিপুল ভোট পেয়েছে ধানের শীষ, তাতে ভোটের সংখ্যা বেড়েছে।


জেলার পাঁচটি আসনের সবকয়টিতে বড় জয় Reviewed by প্রান্তিক জনপদ on 2/23/2026 07:38:00 PM Rating: 5

No comments:

Copyright © Prantik Jonopd All Right Reseved 2020
Created by Thawhid Shahin

যোগাযোগ ফর্ম

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.