শান্তিগঞ্জে হাতকড়াসহ আসামির পলায়ন, পরে ‘সমঝোতায়’ উদ্ধার হাতকড়া
অনলাইন ডেস্ক:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ এক আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া আসামি আসির মিয়াকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় তার কাছ থেকে হাতকড়া উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
হাতকড়া উদ্ধার হলেও আসামি অধরা থাকায় এবং ঘটনার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্যে পরিবর্তন আসায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামোধরদপী পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার পথে সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় তার স্বজনদের কয়েকজন পুলিশের কাজে বাধা দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে আসির মিয়া হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা পর আসির আলী নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে বক্তব্য দেন। ওই লাইভে তার হাতে হাতকড়া দেখা যায়। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তাকে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
তবে ঘটনার রাতে শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলিউল্লাহ হাতকড়াসহ আসামি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরদিন সকালে তিনি জানান, মব সৃষ্টি করে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি অলিউল্লাহ বলেন, “গত রাতে দামোধরদপী এলাকায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে মব সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।”
আসামিকে কেন গ্রেপ্তার করা যায়নি জানতে চাইলে তিনি জানান, আসামির অবস্থান এখনো জানা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আসকির আলী জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে হাতকড়া উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে আসির আলীর কাছ থেকে হাতকড়া উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন—পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর পর হাতকড়া কীভাবে স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হলো? হাতকড়া খুলতে চাবির প্রয়োজন হলে সেই চাবি কোথায় ছিল—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় মারজান আহমেদ চৌধুরী বলেন, “আসামির হাতকড়া খুলতে তো চাবি লাগবে, পুলিশের সহযোগিতা লাগবে। তাহলে চাবি ছাড়া হাতকড়া কীভাবে খুলে উদ্ধার করা হলো?”
অন্যদিকে আসির আলী ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, তাকে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল কি না কিংবা পুলিশ কোন আইনি ক্ষমতাবলে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, হাতকড়া উদ্ধার হয়েছে, তবে আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আসামি হয়তো কোথাও হাতকড়া রেখে চলে গেছে এবং পরবর্তীতে হাতকড়া সেখানে আছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আসির মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
Reviewed by প্রান্তিক জনপদ
on
9/03/2026 07:46:00 PM
Rating:

No comments: